অর্থনীতির অধ্যাপনা দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা, কিন্তু, আমাদের সৌভাগ্য, অম্লান দত্তের তৎপর লেখনী এই বিশেষ গণ্ডিতেই শুধু আবর্তিত হয়নি। প্রায় চার দশককাল ধরে অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজদর্শন, শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি জাতীয় নানান বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মননদীপ্ত রচনা প্রকাশিত হয়েছে। এ-কালের একজন অগ্রণী চিন্তাবিদ হিসেবে অচিরেই চিহ্নিত হয়েছেন তিনি। অম্লান দত্তের চিন্তায় রাজনীতি এসেছে অর্থনীতির হাত ধরে, রাজনীতি-অর্থনীতির সমস্যাবলি পর্যালোচিত হয়েছে ইতিহাসে প্রেক্ষাপটে। ধাপে-ধাপে তাঁর রচনায় যুক্ত হয়েছে নতুনতর মাত্রা। চিন্তার স্পষ্টতায়, ভাষার স্বচ্ছতায়, বিশ্লেষণের ব্যাপকতায়, উপলব্ধির গূঢ়তায়, প্রত্যয়ের দৃঢ়তায় অম্লান দত্তের প্রবন্ধাবলি আক্ষরিক অর্থেই প্র-বন্ধ। তাঁর একটি লেখাকেও অস্বীকার করা যায় না, এক কথায় নস্যাৎ করে দেওয়া যায় না তাঁর মুক্ত চিন্তার যুক্তি-পরম্পরাকে। তিনি সেই বিরল প্রাবন্ধিকদের অন্যতম যাঁর রচনা পরবর্তীকালেও হারায় না প্রাসঙ্গিকতা, যাঁর চিন্তা আমাদের বহু ভাবনাচিন্তা, সমস্যা-সংকটের জট ছাড়াতে, কর্মপন্থা নির্বাচন করতে সহায়ক হয়ে ওঠে। অম্লান দত্তের সুলভ-দুর্লভ যাবতীয় গ্রন্থের পুনর্মুদ্রণ নয় এই সংগ্রহ, আরও বড় কিছু বেশি কিছু। এই সংগ্রহের স্বেচ্ছাব্রতী দুই সম্পাদক প্রগাঢ় নিষ্ঠায় ও প্রভূত পরিশ্রমে কালানুক্রমিকতা বজায় রেখে প্রতিটি গ্রন্থের মধ্যে লেখক যেভাবে প্রকাশ করেছিলেন প্রবন্ধগুলি, সেই বিন্যাসে সাজিয়ে দিয়েছেন অম্লান দত্তের সমগ্র প্রবন্ধাবলি। স্বতন্ত্র ও স্বয়ম্প্রভ দুটি ভূমিকায় পৃথকভাবে জানিয়েছেন এ-সংকলনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্যের কথা, বিস্তৃতভাবে চিহ্নিত করেছেন প্রাবন্ধিক-রূপে অম্লান দত্তের বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যের, স্বাতন্ত্র্য ও সার্থকতার ক্ষেত্রটিকে। বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন রূপে গণ্য হবে এই সংকলন।